‘ব্যবসায় করার সহজসাধ্যতা’ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের করা জরিপে ১৮৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২২তম। বাংলাদেশ ২০১১ সালের অবস্থান ১১৮তম থেকে ২০১২ সালে পিছিয়ে ১২২তম হয়েছে, এর মানে হচ্ছে আসন্ন দিনগুলো ব্যবসায়ের জন্য প্রতিকূল হয়ে যাচ্ছে। একটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ব্যবসায়ের উপর অনেক বেশি দায়বদ্ধ। ব্যবসায়ের অনুকূল পরিবেশ কোন ছোট বা মাঝারি আকারের উদ্যোগগুলোকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের কর্তৃপক্ষ এদিকে খুব কমই নজর দেয়।

নিচে একটি তালিকা দেয়া হল – বাংলাদেশে কোন নতুন কারবারে ঢুকতে ও রেজিস্টার করতে হলে, তথা ব্যবসায় শুরু করার জন্য একটি স্টার্টআপ উদ্যোক্তার অবশ্যই যেসব আমলাতান্ত্রিক এবং আইনি জটিলতা অতিক্রম করতে হবে, তার একটি বিস্তারিত সারমর্ম, এবং এর সাথে প্রয়োজনীয় সময় এবং খরচের বিবরণ। এখানে ৫০ জন কর্মচারী এবং জাতীয় মাথাপিছু আয়ের ১০ গুণ প্রাথমিক পুঁজি নিয়ে একটি ব্যবসায়িক বা শিল্প কারবার চালু করার পদ্ধতি, সময় এবং খরচ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

এগুলো শুধুমাত্র স্পষ্ট বিষয়, আরও অনেক ঊহ্য বিষয়ও এর সাথে জড়িত। দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক সমস্যা, আমলাদের অসহযোগী আচরণ এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। যাই হোক, চলুন সামনে আগানো যাক। আশা করি এই প্রবন্ধটি স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের সাহায্যে আসবে।

ধাপ ১. রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস (RJSC)-এর মাধ্যমে কোম্পানির প্রস্তাবিত নামের অনন্যতার অনলাইন ভেরিফিকেশন।
প্রস্তাবিত নামটি অনলাইনে পাঠাতে হয় এবং RJSC-এর ডেপুটি রেজিস্ট্রার (নাম ক্লিয়ারেন্স) কর্তৃক ই-মেইলের মাধ্যমে ছাড়পত্র প্রদান করা হয়। নামের ছাড়পত্রের একটা প্রিন্ট কপি অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও কোম্পানির অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় ফরমের সাথে RJSC-এর কাছে জমা দিতে হয়।
প্রয়োজনীয় সময়কাল: ১ দিন
আনুমানিক খরচ: ১০০ টাকা

ধাপ ২. মনোনীত ব্যাংকে আঠালো স্ট্যাম্প ফী পরিশোধ করা।
কিছুকাল আগপর্যন্ত কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন নির্বিশেষে মেমোরান্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশনের সাথে বিশেষ আঠালো স্ট্যাম্প ফী নির্দিষ্ট ছিল। “The Stamp Duty” (Payment Act 1974-এর অতিরিক্ত রীতি)-এর অধীনে ২০ জানুয়ারি ২০১০ (SRO # 21-Law)-এ স্ট্যাম্পের পরিবর্তে পে অর্ডার ব্যবস্থা অনুমোদিত হয়। আবেদনকারীদেরকে এখন আর বিশেষ আঠালো স্ট্যাম্প কিনতে হয় না। রাজস্ব-বিভাগের মনোনীত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পেমেন্ট পরিশোধ করা যায়। আগে শুধু সোনালী ব্যাংকের কয়েকটি নির্ধারিত শাখায় সব ধরণের ফী জমা দেয়ার নিয়ম ছিল। RJSC এখন ব্র্যাক ব্যাংককে ফী সংগ্রহের অনুমোদন দিয়েছে।
১০০,০০০ টাকা থেকে ১,০০০,০০০ টাকার মধ্যে অনুমোদিত মূলধনের জন্য ২০০০ টাকার আঠালো স্ট্যাম্প লাগে – ৫০০ টাকা লাগে মেমোরান্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন-এর জন্য এবং ১৫০০ টাকা লাগে আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশন-এর জন্য।
প্রয়োজনীয় সময়কাল: ১ দিন
আনুমানিক খরচ: ২০০০ টাকা

ধাপ ৩. রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস (RJSC)-এ রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নথিভুক্ত করা।
মেমোরান্ডাম এবং আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশন নথিভুক্ত করার জন্য কোম্পানির অনুমোদিত মূলধনের উপর ভিত্তি করে কোম্পানি ফী পরিশোধ করে থাকে। ৩১৮৩২০ টাকার মূলধনের কোম্পানির জন্য খরচ হবে ৪১২৫ টাকা (২৯২৫ টাকা রেজিস্ট্রেশন ফী + ১২০০ টাকা রেজিস্ট্রেশন নথিভুক্ত করার ফী)। ফী-গুলো অনুমোদিত ব্যাংকে পরিশোধ করতে হয়।
রেজিস্ট্রারের কাছে নিম্নোক্ত কাগজপত্র জমা দিতে হবে:
(ক) নামের ছাড়পত্র;
(খ) মেমোরান্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন;
(গ) আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশন;
(ঘ) ১, ৬, ৯, ১০ এবং ১২ নং ফরম;
(ঙ) রাজস্ব স্ট্যাম্পের জন্য পেমেন্টের প্রমাণপত্র (তথা অনুমোদিত ব্যাংকের রসিদ);
(চ) নগদীকরণ প্রমাণপত্র (প্রবাসী গ্রাহকদের জন্য); এবং
(ছ) ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (অধিবাসী গ্রাহকদের জন্য)।
প্রয়োজনীয় সময়কাল: ১ দিন
আনুমানিক খরচ: ২৯২৫ টাকা রেজিস্ট্রেশন ফী + ১২০০ টাকা রেজিস্ট্রেশন নথিভুক্ত করার ফী

ধাপ ৪. কোম্পানির সীল তৈরি করা।
প্রয়োজনীয় সময়কাল: ১ দিন
আনুমানিক খরচ: ৪০-৫০ টাকা

ধাপ ৫. ট্যাক্স কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করা।
ব্যবসায় শুরু করার জন্য প্রতিটি কোম্পানিকে অবশ্যই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীনে উপযুক্ত ট্যাক্স কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে (জোনাল কর বিভাগের কোম্পানি সার্কেলের কর উপ-কমিশন) রেজিস্ট্রেশন করতে হবে এবং নতুন কোম্পানির জন্য একটি ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর তৈরি করতে হবে।
প্রয়োজনীয় সময়কাল: ৯ দিন
আনুমানিক খরচ: বিনামূল্যে

ধাপ ৬. মূল্য সংযোজন কর-এর রেজিস্ট্রেশন।
মূল্য সংযোজন করের জন্য কোম্পানিগুলো আলাদাভাবে শুল্ক বিভাগ, আবকারি শুল্ক, এবং মূল্য সংযোজন কর কমিশন (জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীনে)-এ রেজিস্ট্রেশন করতে পারে। ব্যবসায় পরিচালনার সময় বিভিন্ন যথাযোগ্য মূল্য সংযোজন কর এলাকার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড শুল্ক বিভাগ এবং মূল্য সংযোজন কর ও আবকারি শুল্ক বিভাগ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়।
প্রয়োজনীয় সময়কাল: ৫ দিন, ধাপ ৫ এর সাথে একযোগে
আনুমানিক খরচ: বিনামূল্যে

ধাপ ৭. ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করা।
কোম্পানিগুলো সিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করতে পারে। ট্রেড লাইসেন্সের আবেদনপত্রের সাথে নিম্নোক্ত কাগজপত্র অবশ্যই লাগবে:
ক) কোম্পানির আর্টিকেলস এবং মেমোরান্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশনের প্রত্যায়িত কপি,
খ) নিবন্ধন পত্রের একটি কপি,
গ) কোম্পানির ব্যাংক স্বচ্ছলতার বিবৃতি,
ঘ) কোম্পানির ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর সার্টিফিকেট,
ঙ) কোম্পানির অফিসের জন্য ভাড়ার চুক্তিপত্র,
চ) তিন কপি ছবি এবং প্রধান যৌথ কর্মকাণ্ডের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিস্তারিত বিবরণ।
প্রয়োজনীয় সময়কাল: ৬ দিন
আনুমানিক খরচ: ৫০০০ টাকা

 

Source: Doing Business project, World Bank, Doing Business in Bangladesh. The information last updated in June 2011.

My name is Md. Rashadul Islam. I'm 29 years old and live in Dhaka.